Articles by "Shahrasti News"
Showing posts with label Shahrasti News. Show all posts

চাঁদপুর শাহরাস্তি উপজেলার মেহার-ডল্টা এবং মেহার-লোটরা সড়কের বেহাল অবস্থা।


Nfc Club বার্তা নিউজ :

চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা খাও দাও ঘুমাও, কাজের এই নিয়মে পরিনত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগাধীন শাহরাস্তি উপজেলার মেহার-ডল্টা সড়কের শাহরাস্তি গেইট (দোয়াভাঙ্গা) হতে পৌরসভা সদর ঠাকুর বাজার মহামায়া গাছ তল, মডেল স্কুল, হাসপতাল গেইট, মেহার কালিবাড়ির অগ্রণী ব্যাংক এলাকা হতে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত।



শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের খেড়িহর গ্রামের তেলিয়া বাড়ির সেফটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হওয়া ৩ সন্তানের জননী রুমু বেগমের লাশ গতকাল সোমবার দাফন করা হয়েছে। গত ৭ মে দুপুরে রুমু বেগমকে খুন করে লাশ বাড়ির সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়। ঘটনার পর থেকে রুমু বেগমের স্বামী পলাতক রয়েছে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ৭ মে বেলা দেড়টায় রুমু বেগমের কন্যা মারজান (৪) তার মায়ের মৃতদেহ সেফটিক ট্র্যাংকের ভেতরে দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার করে। এরপর বাড়ির লোকজন এসে লাশটি উদ্ধার করে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরদিন ৮ মে পুলিশ লাশটি ময়না তদন্তের জন্যে চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করে। ময়না তদন্ত শেষে গতকাল তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনার পর থেকে রুমু বেগমের স্বামী জামাল হোসেন পলাতক রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রুমু বেগমকে মেরে লাশ সেফটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়েছে। এ হত্যার জন্যে রুমুর স্বামীকে দায়ী করেছে পরিবারের সদস্যরা।

এ ব্যাপারে রুমু বেগমের ভাই মিন্টু বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ কামাল উদ্দিন জানান, ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। তার স্বামী জামাল হোসেন পলাতক রয়েছে I
শাহরাস্তিতে এবারের দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ২০ টি মাদ্রাসা থেকে ৬ শত ৪৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এতে ৫ শত ৫৭ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। অকৃতকার্য হয়েছে ৯০ জন শিক্ষার্থী । পাশের হার শতকরা ৮৬.০৯ ভাগ। এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন শিক্ষার্থী ।
 রাগৈ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সকলেই কৃতকার্য হয়। পাশের হার শতভাগ। এছাড়া আহম্মদ নগর আব্দুল আজিজ আলিম মাদ্রাসা থেকে ২১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সকলেই কৃতকার্য হয়। পাশের হার শতভাগ। সর্বাধিক জিপিএ-৫ পেয়েছে কাকৈরতলা গোলাম কিবরিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৩ শিক্ষার্থী । এছাড়া শাহরাস্তি চিশতীয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ২ জন, রাগৈ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা ১ জন, গাউছিয়া হাশেমিয়া সেকান্দর আলী সুন্নিয়া ফাযিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন,ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসা থেকে ১ জন ও সিরাজ উদ্দিন মহিলা মাদ্রাসা থেকে ১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

গতকাল ১১ মে বেলা ৩ টায় শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানদের সাথে মত বিনিময় করেন, জেলা প্রসাশক আব্দুস সবুর মন্ডল । এসময় তিনি শিক্ষকদের উদ্দ্যেশে বলেন , বাচ্চাদের ভালো মন্দের দায় দায়িত্ব শিক্ষকদের নিতে হবে। আপনারা কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।আপনারা অসম্মান যাতে না হন সে ব্যবস্থা করবেন। আমরা দেখতে চাই কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা । কাজের অগ্রগতির বিবরণ দিতে হবে।৫০ ভাগ জিপিএ-৫ পেতে হবে। ২২ জুনের মধ্যে শতভাগ কাব দল গঠন করতে হবে।
শাহরাস্তি ভালো উপজেলা , শিক্ষার হার ও ভালো ,আমি বিশ্বাস করি আপনারা ভালো করবেন। কর্ম পরিকল্পনায় ভালো শিক্ষকদের পুরস্কৃত করা হবে। এ পুরস্কার পদন্নতির জন্য ভূমিকা রাখবে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাহেলা বেগমের সভাপতিত্বে সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)মোহাম্মদ আব্দুল হাই ,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন মিয়াজী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামিউল মাসুদ,জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আক্তারুজ্জামান,সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাঃ জেসমিন আকতার বানু । অন্যানের মাঝে উপস্থিত ছিলেন শাহরাসিত প্রেস ক্লাব সভাপতি কাজী হুমায়ন কবির, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা খাজা মাঈনুদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুর রব , সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

শাহরাস্তি উপজেলার সূচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের শোরসাক পূর্বপাড়া মাঠে জন্ম নেয়া একটি বট গাছকে ঘিরে ধর্ম ব্যবসা ও প্রতারণার ডাল-পালা গজিয়েছে। কথিত মসজিদ, মাদ্রাসা, অসহায় প্রতিবন্ধী আশ্রম ও এতিমখানা কমপ্লেক্সের নামে সরকারের প্রায় ১৮ শতাংশ জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ওই বট গাছকে অলৌকিক আখ্যা দিয়ে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কুচক্রী মহল।

    জানা যায়, ওই মাঠের ফসলী জমির মাঝখানে একটি বট গাছকে ঘিরে সরকারের ২০ শতাংশ খাস জমি রয়েছে। রোদ-খরা ও বর্ষায় কৃষকগণ একটু প্রশান্তির আশায় ওই গাছের ছায়াতলে বসতো। এলাকাবাসী জানায়, ৬/৭ বছর আগে শোরসাক গ্রামের জুনাব আলীর পুত্র জসিম উদ্দিন বট গাছে অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে মর্মে দাবি করে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও গাছকে ঘিরে ওয়াজ মাহফিল শুরু করে। এ স্থানে হাফেজিয়া মাদ্রাসা, জামে মসজিদ, এতিমখানা, দুঃস্থ-অসহায় প্রতিবন্ধী ও বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে দাবি করে দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, মোটর শ্রমিক এমনকি নিন্মবিত্তের কাছ থেকে মোটা অংকের দান-অনুদান গ্রহণ করে। এছাড়াও রয়েছে ছোট-বড় দান বাক্সের বহর।
    স্থানীয়রা জানায়, কোনমতে মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়া স্বল্প শিক্ষিত যুবক তার রসালো-রসনায় প্রথমে বীমা পেশা হতে শুরু করে বিভিন্ন এনজিও ও সমবায় সমিতির মাধ্যমে এলাকা হতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এক সময়কার আলোচিত জুয়াড়ি জসিম জুয়া খেলায় সর্বস্ব খুইয়ে দিশেহারা হয়ে কখনো চায়ের দোকান আবার কখনো ভাতের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে দেখা গেছে। সবশেষে পোষাক পাল্টিয়ে দাড়ি-টুপি ধারণ করে বট গাছ হতে বের হওয়া শিকল জড়িয়ে ধরে সাধারণ থেকে বনে যায় ফকির আস্তানার মোতাওয়াল্লি ওরফে শিকল হুজুর। তাছাড়াও জসিম উদ্দিনের অর্থ কেলেঙ্কারীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তারা।
    সরেজমিনে গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় আলোচিত ফকির আস্তানায় গেলে ওই স্থানে দরজা বন্ধ একটি টিনের দোচালা ঘর যা জামে মসজিদ নামে পরিচিত। পাশেই একটি একচালা যা কাগুজে কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্ষার শুরু হতে সপ্তাহে একদিন জুমা’র নামাজ ছাড়া আর কোনো আনুষ্ঠানিকতা হয়না। স্বল্প সময়ের জন্য চালুকৃত মক্তবটি (মসজিদের ভিতর) বন্ধ হয়ে গেছে ৩/৪ মাস আগে।
    বিভিন্ন দান-অনুদানের এতো টাকা পয়সা কোথায় যায়, জানতে চাইলে আস্তানার পরিচালনা কমিটির সদস্য পরিচয়দানকারী মোঃ আবু হানিফ জানায়, মসজিদ তৈরিতে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। মাদ্রাসা ঘর নির্মাণে খরচ হয়েছে ৩১ হাজার টাকা। এছাড়া ৬০ হাজার টাকা আস্তানার নামে করা ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, জসিম উদ্দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে উত্তোলিত টাকাগুলো রাতের পর রাত জুয়া খেলে নষ্ট করেছে। যে কারণে তার ধার দেনা পরিশোধের লক্ষ্যে পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা চলছে।
    আস্তানার খাদেম হাফেজ মোঃ রেহান উদ্দিন জানান, এখানে কোনো পরিচালনা কমিটি নেই। জসিম উদ্দিন একাই এই কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারী, ক্যাশিয়ারসহ সকল পদধারী। মাহফিলের সময় বিভিন্ন ধরণের লোকদের আনা-গোনা ও বিভিন্ন টাইপের লোকদের দিয়ে মাহফিল চালানো হয়। মাদ্রাসা ঘর নির্মাণে আমি নিজে ৩১ হাজার টাকা ধার করেছি যা আজো পরিশোধ করা হয়নি। আস্তানার নামে ব্যাংকে কোনো টাকা গচ্ছিত নেই। মাহফিলের নামে ৪/৫ ধরনের লিফলেট তৈরি করে ভিন্ন ভিন্ন লোকদের প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি সাজিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে থাকেন। বট গাছের অলৌকিক শিকল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি আরো জানান, এক সময় বট গাছের সাথে মুরুব্বিরা শিকল দিয়ে হারিকেন বেঁধে রাখতো, কালক্রমে গাছের বেড় বৃদ্ধি পেয়ে ওই শিকলটি গাছের ভিতর আটকে গেছে।
    এ ব্যাপারে জসিম উদ্দিন ওরফে শিকল হুজুরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
    এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে উল্লেখিত স্থানে কোনো এতিমখানা, অসহায় প্রতিবন্ধী আশ্রম ও বৃদ্ধাশ্রম নেই বলে জানা যায়।